শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

মন্দিরের জমি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা, ইজারা দিচ্ছে তহশিলদার!

রিপোটারের নাম / ১০৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরে শ্রী শ্রী বঙ্কবিহারী জিউ আখড়ার ১ একর ৫৭ শতাংশ জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশান ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান রয়েছে। এরমধ্যেই স্থানীয় তহশিলদারের যোগসাজসে একটি চক্র জমিটি ইজারা নিয়ে দখল করতে পাঁয়তারা করছে। ইজারাদার জমিটি দখলে নিতে গেলে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। তবে এটি বন্ধে রিট পিটিশান ও ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ের আগে ইজারা না দেওয়ার দাবি মন্দির সংশ্লিষ্টদের।
তারা জানিয়েছেন, বঙ্কবিহারী জিউ আখড়াটি সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হামছাদী গ্রামে অবস্থিত। ১৯২২ সালের সিএস খতিয়ান ও ১৯৬০ সালের এস এ খতিয়ানে ওই জমিটি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে মন্দিরের নামে রেকর্ড হয়। কিন্তু আনোয়ার উল্যা গং নামে একটি চক্র ইউনিয়নের সাবেক ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) নজরুল ইসলামের সহযোগীতায় ওই জমিটি ২০১২ সালে আরএস খতিয়ানে সরকারের নামে রেকর্ড করিয়ে নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ২০১৩ সালে জমিটি ফের মন্দিরের নামে খতিয়ানভূক্ত করার লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। এখনো মামলাটি চলমান। পরে চক্রটি ২০১৯ সালে তহশিলদার নজরুলকে দিয়ে তাদের (আনোয়ারগং) নামে ৪৯ বছরের জন্য জমিটি ইজারা করে নিয়েছে। এর কিছুদিন পরই তহশিলদার চাকরি থেকে অবসর নেন। এখন বর্তমান তহশিলদার এম ও ফারুককে দিয়ে আনোয়াররা ওই জমিটি দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
এদিকে ২০২১ সালে জমিটি ইজারা দেওয়ায় মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ উচ্চ আদালতে রিট পিটিশান দায়ের করেন। এতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারি কমিশনার (ভূমি), সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও আনোয়ার উল্যাহসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানায়, যুগ যুগ ধরে জমিটি মন্দির কর্তৃপক্ষ বর্গা দিয়ে এসেছে। বর্গাকৃত জমির টাকা মন্দিরের উন্নয়নে খরচ করা হতো। হঠাৎ করে টাকার বিনিময়ে আনোয়ার উল্যাহরা তহশিলদারকে দিয়ে জমিটি সরকারের নামে খতিয়ানভুক্ত করে নেয়। পরে চুপিসারে ইজারা নিয়ে এখন দখলের পাঁয়তারা করছে। আদালতের রিট পিটিশান ও ট্রাইব্যুনালের মামলার রায় এখনো হয়নি। এরআগেই জমি দখলে দিলে সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি বন্ধে রিট পিটিশান ও ট্রাইব্যুনালের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ বলেন, মন্দিরের জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশান চলছে। জমিটি মন্দিরের। সিএস ও এসএ খতিয়ানেও দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে জমিটি রেকর্ড ছিল। কিন্তু আনোয়ার উল্যাহরা টাকার বিনিময়ে আরএস খতিয়ানে জমিটি তহশিলদার নজরুলকে দিয়ে সরকারের নামে রেকর্ড করে নেয়। পরে তহশিলদারকে দিয়েই তারা জমিটি নিজেদের নামে ইজারা করে নেয়।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা বলেন, জমি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। এতে জমি নিয়ে কোন সিদ্ধান্তের আগে রায়ের অপেক্ষা প্রয়োজন। রায়ের আগে যেন ইজারা নবায়ন ও জমি দখলে না দেওয়া হয়, এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
জমির ইজারাদার আনোয়ার উল্যাহ বলেন, আমাদের সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষের কোন ঝামেলা নেই। জমিটি সরকারের। আমরা সরকার থেকে জমিটি ইজারা নিয়েছি। সময়মতো সংশ্লিষ্টরাই আমাদেরকে জমিটি বুঝিয়ে দেবে।
উত্তর হামছাদী সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) এম ও ফারুক জানান, চিত্ত রঞ্জনের দায়ের করা রিট পিটিশানটি খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। জমিটি মন্দিরের নয়, সরকারের। পরে তারা আবার রিট পিটিশান করেছে কি না, তা জানা নেই। ১৯৬৮-৬৯ সালে আনোয়ার উল্লাহর বাবা ওই জমিটি ইজারা নিয়েছিল। পরে দীর্ঘ বছর বছরের খাজনা দিয়ে তারা ২০১৯ সালে ফের জমিটির ইজারা নবায়ন করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ