বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১০:২৭ অপরাহ্ন

বিদ্রোহী নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি: জসিম

রিপোটারের নাম / ১৫৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এএফ জসিম উদ্দিন (স্বতন্ত্র) বলেছেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিকসহ এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করার স্বপ্ন আমার দীর্ঘদিনের। সেটি বাস্তবায়ন করতেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছি। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়ে নয় ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার’ নির্দেশেই প্রার্থী হয়েছিলাম।
এএফ জসিম উদ্দিন ‘আমরা ক’জন মুজিব সেনা’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের টুমচর গ্রামের বাসিন্দা।
জসিম উদ্দিন বলেন, একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারনে প্রচার-প্রচারণায় শুরু থেকে নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারিনি। তবে যেদিন থেকে সুযোগ পেয়েছি, চেষ্টা করেছি আসনটির সব জায়গায় পোস্টার-ফেস্টুন লাগানো ও নির্বাচনী প্রচারণা করার। সবগুলো ইউনিয়ন কিংবা এলাকায় যেতে। কিন্ত আমার এই স্বল্প প্রচারও নৌকার কর্মীরা হুমকি মনে করছে।
তারা বিভিন্ন জায়গায় আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। আমার কর্মীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের (নৌকার কর্মী) হুমকি-ধামকির কারনে এখনো বহু কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারিনি।
অথচ, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি শেখ হাসিনার নির্দেশেই। বিগত নির্বাচনগুলোর চেয়ে আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে দেশ ও বিদেশে আরো বেশি গ্রহনযোগ্য করতে স্বতন্ত্র কিংবা ড্যামি প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে দলীয় প্রধান নিজেই সুযোগ করে দিয়েছেন। কিন্তু নৌকার কর্মী-সমর্থকদের কারনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই পরিকল্পনা লক্ষ্মীপুরে ভেস্তে যাচ্ছে।

আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে লক্ষ্মীপুরে পর্যাপ্ত বরাদ্দ, যন্ত্রপাতি, ওষুধ সরবরাহসহ ডাক্তার-নার্স নিয়োগ করেছেন। উপজেলার পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে গড়ে তুলেছেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। নিয়োগ দিয়েছেন ডাক্তারও। অথচ সঠিক তদারকির কারনে অনেকটাই বেহাল অবস্থা সেগুলোর। আমি নির্বাচিত হলে এসব অনিয়ম দূর করবো। উন্নয়ন ঘটাবো এখানকার স্বাস্থ্যসেবার।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করবো। সরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তুলবো কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এএফ জসিম উদ্দিন বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা মেঘনা মেঘনাবেষ্টিত হওয়ায় এখানে সবজি-ফসল ও মৎস্য’র উৎপাদনের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। এজন্য আমি নির্বাচিত হলে, এখানকার মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকদের নিয়ে কৃষি বিপ্লব ঘটাবো। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরনের ব্যবস্থা করবো। বৃদ্ধি করা হবে মৎস্য উৎপাদন। তাদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করবো। এছাড়া সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষন ও সেমিনার করে এখানকার মানুষকে উৎসাহিত করবো ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে। ফিরেয়ে আনবো পুরনো ঐতিহ্য।
আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত রায়পুর ফিশ হ্যাচারিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেটির উন্নয়ন ঘটাবো। সেখানে চালু করবো ডিপ্লোমা কোর্স। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাছ নয় প্রাণীর উপরেও প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে পারবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর-২ আসনের প্রার্থীতা যাছাই-বাছাইয়ের শেষ দিন ছিল। ওইদিন মনোনয়ন ফরমের তৃতীয় পাতা অসম্পূর্ণ ও দুইজন ভোটার সমর্থন না করায় জসিম উদ্দিনের মনোয়ন বাতিল করা হয়েছে। এতে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। সেখানে তার আবেদন নামঞ্জুর হয়। পরে তিনি উচ্চ আদালতে যান। পরবর্তীতে আদালত রোববার (২৪ ডিসেম্বর) তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেন।
আসনটিতে ট্রাক প্রতীকের এএফ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছে ১২ জন। এরমধ্যে শক্ত অবস্থায় রয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। এছাড়া আসনটির সাবেক এমপি পাপুল ইসলামের স্ত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ঈগল প্রতীকের সেলিনা ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ