বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

নতুন বছর এবং আমাদের পরিকল্পনা

রিপোটারের নাম / ১৩০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২২

জাহিদ হাসান তুহিন: নতুন বছর উপলক্ষে প্রতিবছর আমাদের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বেশ কিছু কাজে আমরা জড়িয়ে যাই। সেই বিষয়ে আজকে কোনো কথা হবে না। কিংবা নতুন বছর কিভাবে উদযাপন করা উচিত কিংবা উচিত নয় সেই বিষয়েও আজকে কোনো কথা হবে না।

চলুন আজকে একটু সহজ-সরলভাবে কিছু হিসেব মিলিয়ে দেখি। মনে করুন নতুন বছরের প্রথম দিনটি আপনার জীবনের একটি নতুন সম্ভাবনা৷ আল্লাহ আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছেন নিজের জীবনটাকে সাজানোর, ব্যর্থতার গ্লানিগুলো দূর করার। হতে পারতো আমি এর অনেক আগেই দুনিয়ার মায়া ছেড়ে চলে যেতে হতো।

এখন নিজেকে প্রশ্ন করি, কেনো আমি এখনো বেঁচে আছি। এর কি কোনো নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে? যদি থেকেই থাকে তাহলে আমার কি সেই উদ্দেশ্যটা মাথায় রেখে সামনে চলা উচিত নয়?

যাইহোক, যেহেতু বছরের শুরু হয়েছে তাই আমরা আমাদের মতো করে নিজেদের মধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা সাজিয়ে নিই। যেনো সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারি।

তার আগে আমাদের গত বছরের হিসেবটা একটু সেরে নিতে হবে। মনে করুন আপনি একটি অফিসের কর্মচারী এবং সেই অফিসের মালিকও আপনি। তো স্বভাবতই মালিকের কাছে কর্মচারীর বার্ষিক কাজসমূহ বুঝিয়ে দিতে হবে। আর যেহেতু আপনিই আপনার অধীনের কর্মচারী তাই নিজের কাজ নিজেকেই হিসেব দিতে হবে।

প্রথমেই আমরা গত এক বছরে আমাদের কি কি সফলতা রয়েছে সেইগুলো ও আমাদের কি কি ব্যর্থতা রয়েছে সেইগুলো চিহ্নিত করি। এইবার আসি আমাদের সফলতার পিছনে কাদের অবদান রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করি। এবং সময় করে তাদেরকে একটু ধন্যবাদ জানাই। কারণ আমাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়া শিখতে হবে এবং এই রীতিটা চালু রাখতে হবে। কারণ এই ধন্যবাদের শক্তি অনেক।

ও হ্যা, সফলতা ছুঁয়ে আসতে আপনার কি কি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে সেইগুলো একটু নোট করবেন এবং কি কি বাঁধা উপেক্ষা করেছেন সেইগুলোকেও নোট করবেন। কিন্তু কেনো করবেন?
করার পিছনে একটাই কারণ রয়েছে আর সেটি হচ্ছে নিজেই নিজের অনুপ্রেরণা হওয়া। আপনি যখন নিজের অতীতের সফলতাগুলো দেখবেন, কষ্টগুলো পেরিয়ে সুদিনে আসার প্রক্রিয়াটা চিন্তা করবেন তখন ভিতর থেকে অটোমেটিক একটা শক্তি পাবেন। যেই শক্তির তরঙ্গ যে কতদূর বিস্তৃত রয়েছে তা আপনি কল্পনাই করতে পারবেন না। সেই শক্তিটা যখন আপনি কাজে লাগাবেন ইনশাআল্লাহ আপনার ধারাবাহিক সফলতা আসতেই থাকবে।

এইবার আসি ব্যর্থতার গল্পে। এই ব্যর্থতা শব্দটা শুনলেই আমাদের অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু কোনোভাবেই মন খারাপ করা যাবে না। যেহেতু সফলতা এবং ব্যর্থতা একে অন্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাই আমাদের একটু চোখ-কান খোলা রেখে এখনকার হিসেবটা করতে হবে৷

এইবার চিন্তা করুন, এই যে গত একবছরে আপনার যা যা ব্যর্থতা রয়েছে সেই ব্যর্থতার কারণে আপনার ক্ষতি হয়েছে নাকি লাভ হয়েছে। এখন বলতে পারেন যে এইটা আবার কেমন কথা। একটু ভাবুন তাহলেই আপনার সব হিসেব মিলে যাবে।
আচ্ছা একটা উদাহরণ দিই। আমি ইন্টারমিডিয়েট শেষ করার পর ইচ্ছে ছিলো বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনার্সে ভর্তি হবো। কিন্তু আমার সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমি বিকল্প হিসেবে পলিটেকনিকে ভর্তি হয়েছিলাম। এবং সেই পলিটেকনিক থেকে সৌভাগ্যক্রমে আমি স্কলারশিপ নিয়ে চীনে চলে যাই। এখন আপনার কি মনে হয়?
আমার বাংলা সাহিত্যে অনার্স করতে না পারার ব্যর্থতায় আমার লাভ হয়েছে না-কি ক্ষতি হয়েছে। ঠিক এইভাবেই আমাদের ব্যর্থতার পিছনে ও আমাদের অনেক লাভ থাকে। সচারাচর আমরা সেইগুলো দেখতে পাই না। তাই আমরা আফসোস করতে থাকি। এজন্য আমাদেরকে হিসেব মিলাতে হবে। তাহলে সব পরিষ্কার হবে। একটা কথা আছে জানেন তো, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।

ব্যর্থতার লাভের পরে এইবার আসি ক্ষতির দিকে। যেহেতু ব্যর্থ হওয়ার কারণে আমাদের ক্ষতি হয়েছে তাই আমরা আমাদের ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত করবো। এবং যেই কাজে আমি বা আপনি ব্যর্থ হয়েছি সেই কাজে সে বা তারা কিভাবে সফল হয়েছে তা একটু বের করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজনে তাদের শরণাপন্ন হবো। কারণ শিখতে-জানতে কোনো লজ্জা নেই। এর কোনো বয়সও নেই। আর যদি আগেই নিজে নিজে অনুসন্ধান করে তাদের সফলতার কারণ খুঁজে পাই। তাহলে সেইগুলো নিজের ভিতর কিংবা কোনো ডায়েরিতে নোট করে রাখবো৷ যেনো পরবর্তীতে আমরা কাজে লাগাতে পারি।

যাইহোক এইভাবে আমরা নতুন বছরে চাইলে আমাদের পরিকল্পনা সাজানোর আগে সফলতা এবং ব্যর্থতার হিসেবটা মিলিয়ে নিতে পারি।

আরে একটা কথা তো প্রায় ভুলেই গেলাম, আমাদের যে সফলতা রয়েছে তাতে কি কারো কোনো ক্ষতি হয়েছে কি-না একটু দেখতে হবে। কারণ কারো ক্ষতি করে সামনে এগিতে যাওয়ার মাঝে আসলে কোনো আনন্দ নেই। কারো ক্ষতি করে সফলতার শীর্ষে পৌঁছালে একটা সময় নিজের বিবেকের কাছে নিজে হেরে গিয়ে বিষাদগ্রস্ত হতে হয়। যেই সফলতার মাঝে নিজের পাশাপাশি অন্যদের উপকার হয় তাতে মানসিকভাবে শান্তি পাওয়া যায়। এটিই মূলত প্রকৃত সফলতা।

বছরের শুরুতেই আমরা সম্ভব হলে একটি পরিকল্পনা তৈরি করে নিবো। সেইক্ষেত্রে কেউ যদি শিক্ষার্থী হন তিনি সেইভাবে তার পরিকল্পনা করবেন, কেউ যদি চাকুরিজীবী হন তিনি তার মতো করে সাজাবেন। অর্থ্যাৎ নিজেদের অবস্থান থেকে নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে হবে। পরিকল্পনা করে সেটা যে রুটিন মাফিক করতে হবে তা কিন্তু না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে কাজগুলো শেষ করবেন। তবে হ্যা, রুটিন অনুযায়ী চলতে পারলে খুব ভালো হয়।

সবার অনাগত দিনগুলো সুন্দর হোক। শারিরীক ও মানসিকভাবে আল্লাহ সবাইকে সুস্থ রাখুক।

উল্লেখ্য: আমাদের মনে রাখতে হবে, বলা সহজ কিন্তু করা কঠিন।

লেখক: জাহিদ হাসান তুহিন
লেখক | কন্টেন্ট ক্রিয়েটর | সমাজকর্মী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ